01716 - 37 57 33

ইমোতে যোগাযোগ করার জন্য

01911 - 1000 95

জরুরী প্রয়োজনে কল করুন

drkmb2000@gmail.com

মেইলে আপনার তথ্য প্রেরন করুন

কিডনির বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার

 

মানুষের অতি প্রয়োজনীয় আঙ্গ –প্রত্যঙ্গের মধ্যে কডিনি অন্যতম ।মানবদেহে কোমরের কিছুটা উপরে মেরুদন্ডের দু‘পাশে  দু‘টি কিডনি থাকে । পরিণত বয়সে একটি কিডনি ১১-১৩ সে: মি: লম্বা ৫-৬ সে: মি: প্রস্থ এবং ৩ সে: মি: পুরু হয় । একটি কিডনির ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম । বাম কিডনি ডান কিডনি অপেক্ষা সামান্য বড় ও কিছুটা উপরে থাকে। দু‘টি কিডনি প্রায় ২৬ লক্ষ্য ছাকনির কাজ করে

 

কিডনির কাজঃ  আমাদের দেহে প্রতিনিয়ত জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলছে । এতে দেহের ভেতর অনেক দূষিত পদার্থ তৈরী হয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। কিডনি তার ছাঁকনির মাধ্যমে রক্তকে পরিশোধিত করে অপ্রয়োজনীয় দূষিত পদার্থসমূহ মূ্ত্রের সঙ্গে দেহের বাইরে বের করে আমাদের সুস্থ রাখে। এছাড়াও কিডনি আমাদের দেহের নিম্নলিখিত কাজসমূহ করে থাকে।

  • অম্ল-ক্ষার ও লবণ –পানির ভারসম্য নিয়ন্ত্রন
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন
  • অস্থি (হাড়) গঠন ও রক্তের উপাদান তৈরী
  • সেবনকৃত ঔষধ শরীরের ব্যবহারের পর মূত্রের সঙ্গে দেহের বাইরে বের করা

কিডনি রোগের প্রকারভেদঃ কিডনি রোগসমূহকে সাধারণত দু‘ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ-

. মেডিক্যাল সংক্রান্ত কিডনি রোগ  ২. সার্জিক্যাল সংক্রান্ত কিডনি রোগ 

 

মেডিক্যাল সংক্রান্ত রোগঃ মেডিক্যাল সংক্রান্ত  রোগসমূহের সাধারণত বিভিন্ন রকম ঔষধের সাহায্য চিকিৎসা করা হয়। যেমনঃ

  • কিডনির ছাঁকনির প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস
  • উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ
  • আকস্মিক কিডনি বিকল
  • ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াজনিত কিডনি রোগ
  • কিডনি ও মূত্রনালীর ইনফেকশন
  • ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ
  • ধীরগতিতে কিডনি বিকল

সার্জিক্যাল সংক্রান্ত রোগঃ সার্জিক্যাল সংক্রান্ত রোগ অপারেশনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করা যায়। তবে বর্তমানে কথিত সার্জিক্যাল সংক্রান্ত কিডনি রোগসমূহ অনেকাংশে বিভিন্ন ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা ও আরোগ্য করা সম্ভব ।যেমনঃ-

 

  • পাথরজনিত কিডনি রোগ
  • প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের জটিলতাজনিত কিডনি রোগ
  • কিডনিতে সিস্ট ও টিউমার
  • জন্মগত কিডনি রোগ
  • আঘাতজনিত কিডনি রোগ
  • অন্যান্য রোগ

কিডনি রোগ হওয়ার প্রধান কারণসমূহঃ অনেক কিডনি রোগের কারণ আজও জানা য।য়নি তবে যেসকল কারণ সাধারণত পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নে দেয়া হলো-

 

  • শরীরে খোঁস- পাচড়া হওয়া
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • ব্যথা ও বাতের ঔষধ , কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক নিয়মিত দীর্ঘদিন ব্যবহার করা।
  • জন্মগত কিডনি রোগ
  • কিডনি পাথর বা প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধির কারণে প্রস্রাবের রাস্তায় দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা

  কিডনি রোগের লক্ষনঃ কিডনি রোগ যেহেতু অনেক প্রকার সেহেতু এর লক্ষনসমূহ ভিন্ন ভিন্ন।কখনও কখনও রোগী কোন উপসর্গ বুঝে ওঠার পূর্বেই তার কিডনি শতকরা ৫০ ভাগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে । কিডনি রোগের প্রধান লক্ষনসমূহ হচ্ছে –

  • হঠাৎ করে প্রস্রাবের পরিমান কমে যাওয়া
  • তলপেটে বা কোমরে ব্যথা হওয়া ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হওয়া ও অস্বাভাবিকতা
  • রক্তসল্পতা দেখ দেয়া ও শরীর অত্যন্ত দুর্বল হওয়া
  • রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
  • বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া
  • হাত ,পা ও মুখ ‍কিংবা সমস্ত শরীর ফুলে যাওয়া
  • ক্ষুধা থাকা সত্বেও খেতে না পারা
  • মাথা ব্যথা ও শরীর চুলকানো

কিডনি বিকল হওয়াঃ উপরে বর্ণিত কারণসমূহ চিকিৎসা সময়মত না করলে কিডনি বিকল  হয়ে পড়ে । যখন কোন রোগীর কিডনি বিকল হয় তখন দুটো কিডনির কার্যক্ষমতা হারানোকেই বোঝাই ।কিডনি বিকল সাধারনত দু,ধরনের হতে পারে ।যেমনঃ-

১/আকস্মিক কিডনি বিকল (Acute Renal Failure)

২/ধীরগতিতে কিডনি বিকল (Chronic Renal Failure)

আকস্মিক কিডনি বিকলের কারণ

  • পায়খানা ও বমির কারণে শিরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে
  • কোনো কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে
  • কিডনির ছাঁকনিতে মারাত্মক ধরনের সমস্যা (নেফ্রাইটিস )হলে
  • যেকোনো কারণে দু‘দিকের মূত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে
  • কোনো কোনো ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে
  • ইনফেকশন বা রোগজীবাণু সংক্রামণের ফলে
  • গর্ভকালীন জটিলতা যেমন-রক্তক্ষরণ ও একলাম্পশিয়া

অকেজো কিডনি রোগীর পথ্যঃ কিডনি রোগে  দৈনন্দিন পথ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । কারণ পথ্য নয়িন্ত্রিতভাবে খেলে কিডনি রোগী অনেকদিন ভালো থাকে জীবনযাবন করতে পারে। এসব পথ্যের ভেতর  রয়েছে প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্য লবণ এবং পটাসিয়াম । এছাড়া জলীয় পদার্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । এসব উপাদান  দেহে কম বা বেশি দুটোই ক্ষতিকর।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে করণীয়ঃ অজানা কারণে কিডনি রোগ ,বংশগত কিডনি রোগ ও দুর্ঘটনাজনিত কিডনি রোগের ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছুই করার থাকে না ।তবে নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করলে অধিকাংশ কিডনি রোগ ও কিডনি বিকলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

  • প্রতিদিন পর্যপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ  পানি পান করুন
  • প্রস্রাবের বেগ পেলে বেশিক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখবেন না
  • টনসিলাইটিস বা গলায় প্রদাহ হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো এবং গলার ইনফেকশন যাতে না হয় সেজন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
  • খোঁস-পাঁচড়া ইত্যাদি সময়মত চিকিৎসা করানো উচিত।
  • ব্যাথা বা বাতের ঔষধ একটানা বেশীদিন সেবন না করা।
  • কোন ঔষধ সেবনকালে হাত-পা ফুলে গেলে বা প্রসাব কমে গেলে তাড়াতাড়ি ঔষধ সেবন বন্ধ করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।
  • প্রয়োজনের তুলনায় বেশী মাছ, মাংস, ডিম খেলে কিডনির নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ছোট বয়স থেকেই সুষম খাবার খাওয়া উচিত।
  • অতিরিক্ত অক্সালেট জাতীয় খাবার যেমন – ওল, কচু, পালংশাক ইত্যাদি খেলে মূত্রথলিতে পাথর হতে পারে। এর ফলে পরবর্তীকালে কিডনি সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Share:

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on pinterest
Pinterest
Share on linkedin
LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

On Key

Related Posts

ক্যান্সার সমস্যা ও সমাধান

ক্যান্সার কেবলমাত্র একটি রোগ নয়। এটা অনেকগুলো জটিল রোগের সমষ্টি। মানবদেহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ দ্বারা গঠিত। সুস্থ দেহে এ কোষগুলি নিয়মিত ও সুনিয়ন্ত্রিত কোষ-বিভাজন

কিডনির বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার

মানুষের অতি প্রয়োজনীয় আঙ্গ –প্রত্যঙ্গের মধ্যে কডিনি অন্যতম ।মানবদেহে কোমরের কিছুটা উপরে মেরুদন্ডের দু‘পাশে  দু‘টি কিডনি থাকে । পরিণত বয়সে একটি কিডনি ১১-১৩ সে: মি:

চিকিৎসা পদ্ধতি

সুসাস্থ্য – সাফল্য – প্রশান্তি সুসাস্থ্যঃ vital force অনুভূতি এবং কার্যকরিতায় দেহ যন্ত্রের যাবতীয় অংশকে সুন্দররুপে এবং সুশৃংখলভাবে নিয়ন্ত্রিত করলে অনুসন্ধিৎসু, যুক্তিবাদী মন (মানুষ) জীবন্ত

চেম্বার পরিচিতি

চেম্বারঃ ‍মুঈনউদ্দিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসালয় উন্নত প্রযুক্তি জার্মানী ঔষধ ও আধুনিক হোমিও চিকিৎসা প্রাপ্তির নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান   দোকান নং – ৪৪, পশ্চিম রুপসা কে.সি.সি মার্কেট (সন্ধ্যা